2

অয়ন

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আগ্রহটা সেই ছোটবেলা থেকেই। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও বই পড়া শুরু করেছিলাম প্রাইমারী লেভেলেই। অনেকগুলো ছোট গল্পের বইয়ের মাঝে একটা-দুটো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পের বইও ছিল। টিভিতেও টুকটাক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত মুভি দেখা হতো। হাই স্কুলে উঠার পরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আগ্রহটা বাড়ে ধীরে ধীরে। যদিও তখনো বড় পরিসরে জানার উপায় আমার হাতের নাগালে নেই। আস্তে আস্তে বড় হতে লাগলাম আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আগ্রহ বাড়তে লাগলো। একসময় ব্লগে ঘুরাঘুরি শুরু করলাম, দেখলাম শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে হাতেগোনা কয়েকজন ব্যতীত আর কেউই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বন্ধে কথা বলা বা তর্ক করছে না, বা তর্ক করলেও সেটার প্রোপার রেফারেন্স দিতে পারছে না। নিজেও পারতাম না মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির সাথে স্ট্রংলি তর্ক করতে। খুব খারাপ লাগতো নিজের কাছেই।

একদিন ফেসবুকের নিউজফীডে দেখলাম নিশম, পলাশ ভাই, অপরাজিতা নীল আপু সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধের দলিলের কাজ শুরু করার পূর্বপ্রস্তুতির ছবি দিলো। দেখে আফসোস হচ্ছিল। বারবার মনে হচ্ছিল, “ইশ আমিও যদি কাজ করতে পারতাম ওদের সাথে।” হঠাৎ পলাশ ভাইয়ের স্ট্যাটাস থেকে জানতে পারলাম, ভলান্টিয়ার হিসেবে “মুক্তিযুদ্ধের দলিল” কম্পাইল করার সুযোগ আছে। সাথে সাথেই নক করলাম উনাকে। উনি আমাকে দ্বিতীয় খন্ডের পিডিএফ টা পাঠালেন এবং বলে দিলেন কিভাবে কী করতে হবে। আমি ২ বছর যাবৎ দেশের বাইরে একটা ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিতে লজিস্টিক সেক্টর দেখাশোনা করছি। সারাদিনে খুব কমই সময় পাই, তাও সেটা রাত ১০ টার পর। তবুও প্রবল আগ্রহ থাকার দরুণ সম্ভব হয়েছে এই অবশ্যকর্তব্য পালন করার। আমাদের শিকড় আমাদেরই সুরক্ষিত করতে হবে। আর এই সুরক্ষার কাজে এত এত মানুষের সাড়া দেখে সত্যিই অন্যরকম এক ভালোলাগা কাজ করে।ইনশাল্লাহ, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাসই জানবে মুক্তিযুদ্ধের। আর এখানেই হয়তো আমাদের সকলের সার্থকতা।