2

আবির

ছোটবেলা থেকেই মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানার প্রচণ্ড ঝোঁক ছিলো।শুরুটা ছিল প্রথম শ্রেণীতে বাংলা পাঠ্যবইয়ের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের বীরত্বগাথা দিয়ে। তার সম্পর্কে পড়েই জানার ইচ্ছা জাগে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে।জানতে পারি প্রাথমিকে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রত্যেকটি শ্রেণীতে বাংলা পাঠ্য বইয়ে একজন করে বীরশ্রেষ্ঠের বীরত্বগাথা রয়েছে।এক বছরের অপেক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণীতে জানলাম বীরশ্রেষ্ঠহামিদুর রহমান সম্পর্কে।তৃতীয় শ্রেণীতে বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, চতুর্থ শ্রেণীতে বীরশ্রেষ্ঠ নুর মোহাম্মদ, পঞ্চম শ্রেণীতে বীরশ্রেষ্ঠমোস্তফা কামালের বীরত্বগাথা।বয়সের সাথে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কৌতূহলও বাড়তে থাকলো।বাড়তে থাকলো জানার পরিধিও।মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কের যেকোনো গল্পের প্রতি আগ্রহের কোনকমতি ছিলনা।

মাধ্যমিকে বাকি দু’জন বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ও মুন্সী আব্দুররউফ সম্পর্কেও জানলাম।ততদিনে দেখা হয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনেক সিনেমাই।শ্যামলছায়া, খেলাঘর, আগুনের পরশমনি, ওরা এগারোজন, একাত্তরের জিশু, হাঙর নদী গ্রেনেড সহ আরো অনেক মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র।স্কুলের টিফিন পিরিয়ডে ছুটে যেতাম সরকারি গ্রন্থাগারে।খুঁজেখুঁজে হাস্যরসাত্মক, সায়েন্সফিকশন বইয়ের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে লিখা বইগুলো পড়তাম।এত কিছুর পরও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার জানার পরিধি যে খুব নগণ্য, তা জানতে পারলাম ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র থেকে বলছি’ পেজের মাধ্যমে।পেজটি সম্পর্কে জানতে পারি তাজুপুর (তাজকিয়া ইসাবা) মাধ্যমে।আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের দলিল, ১৫ খণ্ডের বিশাল এক সংকলন। অনলাইনে এই দলিলের পিডিএফ ভার্সন আছে। ইউনিকোড ভার্সন নেই। যার ফলে দলিলের অন্তর্ভূক্ত কোন তথ্য পাওয়া খুবই জটিল তথা দুঃসাধ্য। তাছাড়া এই দলিলের অনেকটুকুইংরেজিতে লিখা। জানতে পেলাম, একদল তরুণ কাজকরে যাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিবেন বলে।নিজের ভেতর আগ্রহ জাগলো, এই কাজের অংশ হওয়ার।কিন্তু কাকে বলবো,কী করবো এইসবের ঘুরপাকেই রইলাম।একদিন এক পোস্টে মেনশন করলো তাজুপু। ‘অনুবাদকরবি?’ ‘আমার অধীনে কাজ করতে কোনো সমস্যা নেই তো?’ প্রথম প্রশ্নের উত্তরে হ্যাঁ এবং দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে না বলার মাধ্যমেই অংশ গেলাম ‘যুদ্ধদলিল’ প্রজেক্টের।

দ্বিতীয় খণ্ডের অনুবাদ এবং কম্পাইলের দায়িত্ব পড়েছিলো তাজুপুর কাঁধে, যা কিনা ১৫ টি খণ্ডের মধ্যেজটিলদেরএকটি।সবার ঐকান্তিক চেষ্টায় যা এখন সরল আকারে ইউনিকোডে।মেডিকেলে পড়ার চাপ কেমন, তা সবারই জানা।যারা মেডিকেলে পড়ে, তারা নাকি খাওয়ার সময়টুকু বের করতে পারেনা।এর মাঝেও তাজুপুযেভাবে খেটেছেন, শি ডিজার্ভস আ স্যালুট ফ্রম দা নেশন। সমস্যায় পড়লে রাত-বিরেতে নক করতাম, একটুকু বিরক্তি প্রকাশ না করে সব পোলাইটলি আন্সার দিতেন।সত্যিকারের টিম লিডার। এই প্রজেক্টের অংশ হওয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ তাজুপু।