apd4

তাজকিয়া ইসাবা

ছোটবেলায় পরিবার থেকেই আমি বাঙালি জাতির ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা,দেশ,পতাকা প্রভৃতি সম্পর্কে অবগত। আস্তে আস্তে জ্ঞান হওয়ার পর আরো অনেক কিছু জানলাম।এক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য করেছে বিভিন্ন ধরণের বই-পুস্তক। একটা সময় ফেসবুকে আমি আমার বই পড়ার বিষয় গুলো বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে থাকলাম। অনেককেই মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা বই পড়তে উৎসাহিত করতাম। মুক্তিযুদ্ধের দলিল প্রোজেক্ট সম্পর্কে প্রথমে আমি কিছুই জানতাম না। একদিন আমিনুল হক পলাশ স্যার আমাকে “যুদ্ধদলিল” প্রোজেক্ট সম্পর্কে বললেন। পুরো ব্যাপারটা শুনে আমি সানন্দে রাজি হয়ে গেলাম। তারপর আস্তে আস্তে সেই ১২ হাজার পৃষ্ঠার দলিলের ছোট ছোট অনুচ্ছেদগুলো কম্পাইল এবং মাঝে মাঝে অনুবাদেও সাহায্য করতে লাগলাম। এখন আমি বেশ আনন্দের সাথেই কাজগুলো করছি।এভাবেই আমি এই প্রজেক্টের সাথে যুক্ত হয়েছিলাম, এখনো যুক্ত আছি। ভবিষ্যৎ এ পৃথিবীর সব ভাষাভাষী মানুষের কাছে আমাদের এই গৌরবগাঁথা পৌঁছে দিতে চাই।এভাবেই সবার সহযোগিতায় দলিলপত্রের ২য় খণ্ড জনতার কাতারেউন্মুক্ত করেছি।২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে আমি যুদ্ধদলিলের ২য় খণ্ডের অনুবাদের দায়িত্ব পাই। প্রায় ৮৪০ পাতার জটিল সব অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডকুমেন্টে ঠাঁসা ২য় খণ্ডে অনুবাদ করা পাতার সংখ্যা সাড়ে পাঁচশোর কাছাকাছি। প্রায় ৭০ জনের মতো টিম মেম্বার নিয়ে আমি পুরো খণ্ড শেষ করি।শুরুতে আমাকে ৩ মাস সময় দেয়া হয়েছিলো।ব্যাপারটা বেশ চ্যালেঞ্জিং, তবে আমি চ্যালেঞ্জ নিতে ভালবাসি। স্বভাবসুলভভাবে নিলামও।মাঠে নেমে দেখলাম হ-য-ব-র-ল অবস্থা। শুরুতে যে ফরম্যাট সাজিয়েছিলাম, তা কাজ করছেনা।এর মাঝে আমাকে দেয়া সময় শেষ হয়ে গেছে। ওয়ার্কশিট অ্যাসাইন করার হার সেগুলো ব্যাক পাওয়ার হারেরচেয়ে বেশি। অর্থাৎ অনুবাদের জন্য পেজ দিয়েছি কিন্তু পেজ ব্যাক পাচ্ছিনা। এই অবস্থায় প্রোজেক্ট ডাইরেক্টর আবার সময় বাড়ালেন। আমি আবার নতুন ফরমেশেন সাজালাম। তাতেও তেমন কাজ হচ্ছেনা, এই দিকে সময় গড়াচ্ছে। আবারও প্রজেক্ট ডাইরেক্টর দয়ামায়া দেখিয়ে আমাকে সময় বাড়িয়ে দিলেন। এইবার আবার নতুন করে সব ঠিক করলাম। আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো ২য় খণ্ডের কেবল ইংরেজি অংশের আর বাংলা অংশের দায়িত্ব ছিলো পলাশ স্যারের কাছে। তারপর আমাকে জানানো হলো, বাংলা অংশেরও কম্পাইলেশন করতে হবে। এমনিতে অনুবাদ করতে করতে আমার অনুবাদকদের দফারফা,তারপর মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে বাংলা অংশের দায়িত্ব পেলাম। যদিও আগে থেকে কিছু পাতা কম্পাইল করা ছিলো। টোটাল অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে দেখি অবস্থা ভয়াবহ। তারপর আবার সময় বাড়ানো হোল। এইবার আমি ও আলামিন ভাইয়া মিলে কম্পাইলেশন শেষ করে ফেললাম। বাংলা অংশের প্রুফরিডকরতে গিয়ে দেখি ৩০-৩৫ পাতা তখনো বাকি! সেসব টাস্ক ফুলফিল করতে সাহায্য করছে নীতেশ এবং মুন ভাইয়া। ২ জনেই একটা এলিট ফোর্সের মত কাজ করেছেন। এই ২ জনের সহযোগিতায় বাঁধা টপকে আসতে পেরেছি। অনুবাদ অংশেও উনারা ২ জন ফুল ইফোর্ট দিয়েছেন।

ইংরেজি অংশে আমি বেশ কিছু হতাশ করা অনুবাদ পেয়েছি(প্রায় ৯২ পাতার মত)যা আমাকেই সবার শেষে অনুবাদ করতে হয়েছে, তাও মাত্র ১১ দিনে! অর্থাৎ ১১দিনে ৯২ পাতা অনুবাদ করেছি। কিন্তু আমি ওগুলোর ক্রেডিট আমার প্রাইমারি অনুবাদকদেরই দিয়েছি।
সমস্ত খণ্ড প্রুফরিডকরেছি ৩ বার।রিডিঙেসাহায্য করেছেন মুন ভাইয়া এবং অমিতাভ ভাইয়া। উনারা অনেক কষ্ট করে আমার জন্য সময় বের করেছেন।সাকু ভাইয়াকেও অনেক ধন্যবাদ।

সবচেয়ে বড় ধন্যবাদটা আমার টিম মেম্বারদেরই প্রাপ্য।আপনারা না থাকলে আমি কাজ শেষ করতে পারতাম না।আপনারা অনেক কষ্ট করে আমাকে সাহায্য করেছেন। আপনাদের অনেক সময় নষ্ট করেছি। আমি জানি অনুবাদ গুলো অনেক কঠিন ছিলো।সবগুলোই ধরতে গেলে এডমিনিস্ট্রেটিভ ডকুমেন্ট, অফিস আদালতের ভাষা।

আপনারা যা লিখেছেন, যা অনুবাদ করেছেন, তা পরে রেফারেন্স হিসেবে ইউজ করা হবে। আপনারা যা করছেন তা আগে কেউই করে দেখাতে পারেনি।আসলে কেউই আগে করেনি। আপনারা যা লিখেছেন, তা আগে কেউই পড়ে নি।আপনাদের সাহায্য নিয়ে এইবার থেকে তা অনেক মানুষ পড়বে, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানবে।

শুরু থেকে শেষ, আমার প্রতিটা সময় ছায়ার মত আগলে ছিলে নীতেশ এবং মুন ভাইয়া।
ধন্যবাদ দিয়ে আপনাদের ছোট করবো না। তথ্য হোক উন্মুক্ত। আমাদের পরিচয় হোক একটাইঃ মুক্তিযুদ্ধ…