4

দিব্য কান্তি দত্ত

একদিন ক্লাসের পেছনের বেঞ্চে বসে স্যারের লেকচার শুনে বোরড হচ্ছিলাম। হাতে কোন কাজ না থাকায় মোবাইলটা বের করে ফেসবুকে ঢুকলাম। কিছুক্ষণ পর সজীবদার মেসেজ। দরকারি কথা নাকি। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত ব্যাপার…
ছোটবেলা থেকেই বাবার মুখে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনে বড় হয়েছি। বাবা তখন অনেক ছোট। তার দেখা বিভীষিকাময় ঘটনা থেকে শুরু করে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব এবং অন্যান্য সবকিছু নিয়ে এমনভাবে গল্প করতেন, যেন ঠিক চোখের সামনে ঘটছে। তখন থেকেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রবল আগ্রহ ছিল। কিন্তু,পর্যাপ্ত তথ্যভান্ডার হাতের কাছে না থাকায় মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কাজেই মুক্তিযুদ্ধের দলিল নিয়ে কাজ বলাতে আর আপত্তি করলাম না।

তাগিদটা আরও বেশি অনুভব করলাম নতুন প্রজন্মের জন্য। প্রথমত,একই জায়গায় মুক্তি্যুদ্ধের দলিলপত্র এবং বিশ্বমিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদগুলোর সংকলন থাকায় পুরো মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সম্যক একটা ধারণা মিলবে। দ্বিতীয়ত,এটা অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় তথ্য প্রতি মূহুর্তে হাতের মুঠোয় থাকবে।
মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা যার মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা আমাকে সবসময়ই অনুপ্রাণিত করেছে,প্রতিকূল পরিবেশের মুখোমুখি হওয়ার সাহস জুগিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা নিয়ে কাজ করে একটা মহৎ প্রচেষ্টার ক্ষুদ্র অংশ হতে পারায় মনের মধ্যে একটু হলেও ভালো লাগা কাজ করছে। যদিও এই অতি সামান্য চেষ্টাটুকু কিছুই না।

আমি বিশ্বাস করি,দেশের জন্য যেকোন ক্ষতিকর শক্তির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার তরুণ প্রজন্ম। আর সেই মানসিকতাটা তাদের মধ্যে তৈরি করার জন্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সবার কৌতূহল মেটাতে এবং সবাইকে ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রাণিত করতে দলিলটি ভূমিকা রাখলে নিজের মধ্যে একটু হলেও ভাললাগা কাজ করবে। যদিও ব্যস্ততার কারণে খুব বেশি কাজ করা হয় নি। তবুও যেটুকু সুযোগ পেয়েছি মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র বিদ্যা দিয়ে সাহায্য করতে চেষ্টা করেছি। সুযোগ করে দেয়ার জন্য সজীবদাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
দেশের সকল নাগরিক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত হোক- এই কামনা রইল।