15

দীপায়ন অর্ণব

ফেসবুকে প্রথম আসি সম্ভবত ২০০৮-এর শেষ দিকে। তখন ফেসবুকে এত মাতামাতি হতো না কিছু নিয়েই, বা কোন কিছুতেই আলোচনার মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক ততোটা জনপ্রিয় হয়ে উঠে নি। ব্লগে লিখতাম না, তবে পড়তাম। একটা সময় বেশ কয়েকজনের লেখাই ভালো লাগতে শুরু করলো- ব্লগে, ফেসবুকে। এরমধ্যে একজনের ব্লগ এবং ফেসবুক ওয়ালে মোটামুটি নিয়মিত ঢু মারতাম। মানুষটার নাম অমি রহমান পিয়াল। আমি খুব বেশি রকম নিশ্চিত, গত পাঁচ-ছয় বছর আগের সময়টাতেও মুক্তিযুদ্ধ-বঙ্গবন্ধু-মুক্তিবাহিনী এই ব্যাপারগুলো নিয়ে আমাদের মতো যারা তরুণ, তারা খুব বেশি রকম বিভ্রান্ত ছিল। সেই বিভ্রান্তিটাও যে একটা বিশেষ গোষ্ঠীর নিজেদের আদিপাপ ঢাকার জন্যই তৈরি করা, সেটাও হয়তো আমাদের কাছে স্পষ্ট ছিল না। ব্যক্তিগতভাবে বললে, পিয়াল ভাইয়ের ব্লগপোস্টগুলো পড়ার পর থেকে, দালিলিক বিভিন্ন প্রমাণপত্র দেখার পর থেকে সেই বিভ্রান্তিগুলো আস্তে আস্তে দূর হতে শুরু করলো। অবাক হয়ে আবিষ্কার করলাম, এতদিন কি ভুল ইতিহাসই না শেখানো হয়েছে আমাদের। এরপর আরো অনেককেই দেখলাম সেই বিভ্রান্তিগুলো দূর করার, সঠিক ইতিহাস জানানোর দায়িত্বটা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। পরিসর বড় হতে লাগলো, সঠিক ইতিহাসের চর্চাটা শুরু হতে লাগলো অনলাইনে। সেই ধারাবাহিকতাতেই এরপর হঠাৎ একদিন এলো ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র থেকে বলছি’ প্রজেক্ট। উইকিপিডিয়ার মতো, সাধারণ অনলাইন ব্যবহারকারীদেরকে একটা প্লাটফর্মে নিয়ে এসে তাদের সবার চেষ্টায় মুক্তিযুদ্ধের প্রায় পুরো ইতিহাসকে একটা ক্যানভাসে নিয়ে আসার অসাধারণ এক প্রজেক্ট। এটা সম্ভবত, এখন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ফেসবুকভিত্তিক সবচেয়ে অসাধারণ উদ্যোগ। তবে আমার দুর্ভাগ্য, অনিবার্য কিছু ব্যক্তিগত কারণে আমি এই প্রজেক্টের সাথে খুব একটিভলি যুক্ত হতে পারি নি। সেটা নিয়ে আমার আফসোস আছে অবশ্যই। তবে একই সাথে গর্বও আছে। আমারই চেনা কিছু মানুষ, আমাদের জন্মের সঠিক ইতিহাসকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে দিচ্ছেন অনলাইনে, এরচেয়ে ভালো ব্যাপার আর কি হতে পারে? আমরা হয়তো একটা সময় পর্যন্ত বিভ্রান্ত ছিলাম, এখনো অনেকেই বিভ্রান্ত আছে। কিন্তু ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র থেকে বলছি’ এর মতো অসাধারণ এই প্রজেক্টটা যদি ইতিহাসের সকল সত্য পাঠ নিয়ে অনলাইনে টিকে থাকতে পারে, তবে পরবর্তী প্রজন্মকে চাইলেই মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্ত করা যাবে না- এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

 

-ধন্যবাদান্তে,

দীপায়ন