apd3

নোবেল হিমুরা

শুধু আবেগ আর উৎসাহ দিয়ে কোন কাজ করা সম্ভব না। খুবজোর আপনি কাজটা শুরু করতে পারবেন কিন্তু শেষ করতে পারবেন না। যুদ্ধদলিলের এই প্রকল্পে আমার প্রবেশ ছিল শুধুমাত্র আবেগ আর উৎসাহের বসে। কিন্তু ধিরে ধিরে বুঝতে পারলাম কাজটা এত সহজ না। কাজটা আসলে কঠিন বা খুববেশী কোঠিন। আর যাহোক আপনাকে যথেষ্ট পরিমানে এবং নিয়মিত ভাবে সময় দিতে হবে। দুঃখজনক ভাবে আমার হাতে একটুও সময় ছিলনা। এনিম, মুভি, সিরিয়াল দেখা বাদ দিয়ে কিছু সময় বের করলাম। প্রতিদিন ৫০ মিনিট সময় দিয়ে কম্পাইল করে সময়ের আগেই কাজ জমা দিয়ে দিতাম। একদিন চিফ বললেন এখানে দুই পেজ অনুবাদ আছে করে দিও। সেটাও সময়ের মধ্যে করে দিলাম। তারপর অনুবাদের জন্য ডঃ কামাল সাহেবর ১১ পেজর সাক্ষাৎকার পেলাম। অনেকটা সময় দিয়ে এই অনুবাদটা দেওয়া হয়। আমি শেষ মুহূর্তে করতে বসে বুঝতে পারি ইংরেজি ভাষাটার আমি আসলে কিছুই জানিনা। এই কাজটা জমা দিতে দেরি হয়।
.
এরপর চিফ ৬ষ্ঠ খন্ডের দায়িত্ব দিলেন। কাজটা যেন আমি করি সে জন্য যা যা বলা দরকার উনি বলেছেন, সাথে একটা নিতিমালাও দেন এবং আপনারা জানেন উনার লেখার হাত খুব ভাল।
.
৬ষ্ঠ খন্ডে কাজ করার সময় এমন কিছু মানুষের সাথে পরিচয় হয় যাদের কাজের মান আর শ্রম দেখে আমি নিজেই লজ্জা পেয়েযাই। উনাদের এই শ্রম দেখে, আমি যখন যেটুকু সময় পাই প্রোজেক্টের জন্য দিতে শুরু করি। আমাদের শিরোনামহীন-১ একদিন ৫ পৃষ্ঠা বীজয়ে লিখে জমাদেন। আমি বলি শিরোনামহীন এটাতো কোন কাজে আসবেনা, আপনার নতুন কাজটা বাদ দেন এটা আগে করেন। উনি নতুন কাজের ডেড লাইনে রাতের পর রাত জেগে জীবনে প্রথম অভ্র দিয়ে ১৫ পেজ টাইপ করে দেন! তোড়া, খান, নিয়েল মোবাইল দিয়ে কাজ করেছেন। আমি স্ক্রিনশট তুলে দিতাম উনারা সময় মত কাজ জমা দিতেন। এই রহস্যটা আমি আজো বুঝিনা। কিভাবে সম্ভব!! বন্ধু সৌরভ বিদেশে সারাদিন কামলা দিয়ে রাতের পর রাত ফেসবুক নোটে কম্পাইল করে আমাকে ইনবক্সে জমাদেন। রণ, সাহুল, শফিকুল, নোমান, আহসানউল্লাহ, দ্বীপ, কমল, এবং শাহজালাল ভাই কম্পাইল করে গেছেন সময়ের সাথে পাল্লাদিয়ে। আপনারা ওয়ার্ড ফাইলটা পড়লে দেখতে পাবেন উনাদের কাজের ব্যাপকতা।
.
অভিজিৎ, নিয়াজ, আবীর, হাসান, মুকিত, সৈকত, পার্থ, সুমিতা, তানুজা, সাইমা এবং তন্দ্রা এই অসাধারণ মানুষদের ছাড়া অনুবাদের কাজ কখনও শেষ করা সম্ভব ছিলনা। শেষ সময়ে সবরকমের সহযোগিতা পেয়েছি অভিজিৎ, নিয়াজ, আবীরের কাছ থেকে। বন্ধু অর্ণব, তামীম এবং তুষার প্রথম থেকেই অনুবাদের বিষয়ে সাহস যুগিয়েছেন। অর্ণবের মাধ্যমে পরিচয় ঘটে তাসমিয়াহ তাহসিন এবং চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির সাথে। সভাপতি আনন্দ এবং সাধারণ সম্পাদক সুজিতের প্রচেষ্টায় অনেকটা কাজ ডিবেটিং সোসাইটি থেকে উঠে আসে। তাসমিয়াহ, ইফতেখার এবং আনন্দ এই কাজগুলো পলিশ করেছেন।
আমার জন্য শেষের সময়টা ছিল খুব ক্রিটিক্যাল। ফাইনালাইজ করতে গিয়ে দেখি এখানে ২ পেজ নাই ওখানে ৩ পেজ নাই! এই কাজগুলো জরুরীভাবে তানুজা, লেনিন এবং হেদায়েত ভাই তুলেদেন। হেদায়েত ভাই ২৫ মার্চের রাতে একটা ২ পেজের অনুবাদ করেদেন- এইভেবে যে ২৬ মার্চ ৬ষ্ঠ খন্ড উন্মুক্ত হবে! আমার ব্যার্থতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। বন্ধু তুষার দক্ষ কিন্তু অলস অনুবাদক। শেষ সময়ে উনি রাত-দিন মোবাইল দেখে কাগজে অনুবাদ করতে থাকেন। সেই অনুবাদ ছবি তুলে পাঠালে আমি টাইপ করে নিতাম। এভাবে ৬ষ্ঠ খন্ডে কাজ করা মানুষগুলোর গল্পগুলো বলে শেষ হবেনা। তাঁদের মনের কিছু কথা নিচে লেখা আছে অবশ্যই পড়ে দেখবেন।
.
‘মুক্তিযুদ্ধ’ এই একটিমাত্র শব্দের পরিচয়ে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি। আমরা এখন জানি পরিচিত হবার জন্য এর বেশী কিছু আর প্রয়োজন নেই। আমাদের পরিচয় একটাই- ‘মুক্তিযুদ্ধ।
আর আপনার?