4

ফাহমিদা আক্তার বৃষ্টি

ফেইসবুকে এক ছোটভাই প্রায় সময় লিও নামক বিড়ালের ছবিওয়ালা এক আইডির মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা শেয়ার করতো। পড়তাম সেগুলো,বেশ ভালো লাগতো। পরপর কিছু লেখা পড়ার পর সেই আইডিতে রিকুয়েস্ট দিলাম এবং আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি রিকুয়েস্ট এক্সেপ্টও করলেন। কিন্তু কখনোই কমেন্ট/ইনবক্সে আলাপ হয় নাই। এই বছর মার্চের পরে হঠাৎ করে আমি মেসেজ দিলাম। উনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন অনুবাদের কাজ করবো কিনা আমি। মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রের অনুবাদ শুনে রাজি হয়ে গেলাম। উনি আমাকে সজীব ভাইয়ার সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। সেখান থেকেই সজীব ভাইয়ার গ্রুপে ক্ষুদ্র সাহায্য করার প্রচেষ্টা,এই প্রজেক্টে যুক্ত হওয়া। তবে অভিজ্ঞতার কথা বলতে গেলে নিজেই লজ্জা পাই,আবার ভালোও লাগে অবশ্য। কারণ এখানে অনুবাদের কাজ করার আগে আমি কখনোই কোন অনুবাদের কাজ করি নি,সত্যি বলতে আমি কম্পিউটারের ব্যাপারে একেবারেই অজ্ঞ ধরণের মানুষ। কীভাবে কম্পিউটারে একটা ফাইল তৈরি করতে হয়,সেটাই জানতাম না আমি। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখালেখি,তাই দুঃসাহস দেখিয়ে অনুবাদ করতে রাজি হলাম আর আমার ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে শিখে নিলাম কীভাবে কম্পিউটারে ফাইল তৈরি করতে হয়। লেখা শুরু করার পর আরেক বিপত্তি,অক্ষর টাইপ করতে গিয়ে ঠিকঠাক মতো কীবোর্ডের ব্যবহার বুঝতে পারছিলাম না। দুইটা অনুবাদ করার পর মোটামুটি বুঝলাম ব্যাপারটা। কিন্তু যেহেতু কম্পিউটারে নতুন নতুন টাইপ করা শুরু করলাম, তাই লেখার গতি খুবই ধীর। এজন্য খুবই অল্প অল্প কাজ নিয়েছি। খুব বেশি সাহায্যও করতে পারি নি। আর কোন পরিকল্পনা বা পরামর্শ দেওয়ার মতো জ্ঞান-বুদ্ধি আমার মতো নগণ্য মানুষের এখনো হয় নাই। তবে এই অনুবাদের কাজগুলো করতে একটা অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে,মনে হয় অনেক বড় একটা দায়িত্ব নিয়েছি। কাজ জমা দেওয়ার সময় নিজেকে আসলেই দায়িত্ববান মনে হয়,যদিও যৎসামান্য সাহায্য করেছি আমি। এই প্রকল্পের সাহায্যে সবাই আমাদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস জানবে,অসম্ভব বড় একটা বিষয় বলেই আমি এটাকে মনে করি।