15

মেহজাবীন মোস্তফা

ইন্টারনেটে প্রায় নিয়মিত বিচরণ থাকলেও সক্রিয়তা বাড়ে ২০১১ সালের শুরুতে ফেসবুকে প্রবেশের পর। এরপর ধীরে ধীরে ব্লগিং সাইটগুলোতেও ঢুঁ মারতে থাকি। সেই বয়সে রোমান পোলানস্কির সিনেমার প্রশংসা করতে শিখে গিয়েছিলাম অথচ আর দশজন সমবয়সীর মতোই মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞানের সংকট ছিল ভয়াবহ। সেসময় ফেসবুক এবং ব্লগিং সাইটগুলোতে অনেকেই লিখতেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে (এখনো প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে)। আগ্রহ নিয়ে সেগুলো পড়তে শুরু করি এবং ধীরে হলেও ধারণা গড়ে উঠতে থাকে।

 

আমাদের পরিবার থেকে নিজেদের ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার রীতিটি খুব বিরল। পাঠ্যবইগুলোতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক পাঠ্যের ব্যপ্তি এবং তথ্যসমূহ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এরপর রয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির অপপ্রচার এবং ইতিহাসবিকৃতি। এদের সমষ্টিগত ফলাফল হিসেবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মুক্তিযুদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ সম্পর্কে জনসাধারণের বিভ্রান্তি ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করি। সেই সময়টায় প্রথম অনুভব করি নিজেদের ইতিহাস জানার এবং জানানোর তাগিদটুকু।

 

২০১৫ সালে একটি চমৎকার উদ্যোগ নেওয়া হয় স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্রগুলো জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার। থান ইটের মতো মোটা মোটা ১৫ টি খণ্ডের একেকটা বই বাজারে পাওয়া গেলেও সেটাকে “জনসাধারণের কাছে পৌঁছানো” বলা যায় না। ইচ্ছে থাকলেও বেশকিছু পয়সা খরচ করে একেকটা খণ্ড কেনা আমাদের পক্ষে বেশ কঠিন। আবার স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে এ টু জেড জানার জন্য এ দলিলপত্রকে মোটামুটিভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলা যায়। তাই সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করে তোলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ডকুমেন্টেশন ই-বুক আকারে অনলাইনে প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের লক্ষ্য। প্রায় শুরু থেকে আমি এখানে উৎসাহের সাথে কাজ করেছি আরও অনেকের সাথে। আমার জন্য ব্যাপারটি শুধু কাজ করা ছিল না, কাজ করতে করতে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসের বিভিন্ন অংশ জানতে পেরেছি। এ প্রোজেক্টের সাথে জড়িত একেকজন মানুষজন দিনরাত পরিশ্রম করে ১৫ নম্বর খণ্ডটির কাজ শেষ করেছেন অত্যন্ত সফলভাবে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিলসমূহ যোগ করে অনলাইনকে আমরা আরেকটু সমৃদ্ধ করতে যাচ্ছি। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে সকল বিভ্রান্তি, অপপ্রচার দূর হোক এবং প্রজন্ম জানুক নিজেদের সঠিক ইতিহাস – এটির সফল বাস্তবায়ন আমাদের প্রোজেক্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বীজ বুনে দিয়ে যাচ্ছি, ফল হোক শুদ্ধতম।

মেহজাবীন মোস্তফা।