2

রাজীব চৌধুরী

পেশা আর নেশার সমন্বয় আমি কখনোই করতে পারিনাই। এজন্যে সবকিছু একসাথে করি। এই যেমন কখনো কাজ করতে করতে লিখি। কখনো লিখতে লিখতে কাজ করি। আমি আসলে কাজ ব্যতীত থাকতে পারিনা। তবুও সবকিছুর পর কোথায় যেন একটা টান থেকে যায়। যুদ্ধ আমার সেই টান। সেই টানে আমি ফিরে যাই নিজের শেকড়ে। যুদ্ধের সাথে আমার গভীর যোগাযোগ। বাবা যুদ্ধ করতে পারেন নাই। এজন্যে আক্ষেপ ছিল। তবে যুদ্ধে যোদ্ধাদের গুলি বারুদ টানতো। তবে বাবার বয়েসি অনেকেই যুদ্ধ করেছিল। বাবা করতে না পারার কারণ ক্লাস টেনে ওঠার পর বাবার পায়ে পরানো রড পরানো। বাবা হাঁটতে পারেন না ভালোমতো। এজন্যে খোঁড়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উনি লাইনচ্যুত হয়েছিলেন অনেকের মতই।

এগুলা বাবার মুখে শোনা। বাবার মৃত্যু হয়েছে তাও বছর দশেক হলো। এই কাজ শুরু হবার কথাও আমি জানি অনেক পরে। ততদিনে অনেকটা এগিয়েছে। এই দলিল অনুবাদ করতে গিয়ে বার বার হোঁচট খেয়েছি। কারণ এটা অনেক কঠিন ইংরেজি। শেষমেষ অনেক যুদ্ধ করতে হয়েছে। নিজের কাজের সাথে। নিজের সাথেও আপোষহীন শিকড়ের সাথে। জানি আমার কাজ অনেক ঠুনকো।অনেকেই আছেন, যাদের অনুবাদ আমার চেয়ে কম করে হলেও একশত গুণ বেশি শক্তিশালী। তবুও যুদ্ধদলিলের সাথে থাকতে পেরে আমি গর্বিত। যুদ্ধে যেতে পারিনাই বাবার মতই। যুদ্ধের দলিলের খড়কুটোতে খানিকটা হলেও আছি। এটাই সান্তনা।।