11

রাহানুমা সারাহ

স্বাধীনতা পরবর্তী অনেক বছর ধরেই মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মানুষের আগ্রহ এবং জানার পরিধির ব্যপ্তিটা অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। ইন্টারনেট যুগ কিংবা ডিজিটাইজেশনের আগে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে জানতে হতো বই পড়ে। কিন্তু সবসময় হাতের মুঠোয় এই সুযোগ পাওয়া কষ্টদায়ক ছিল। হয়তো বা কারো একক প্রচেষ্টায় কিংবা দু-একজনের দলীয় প্রচেষ্টায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বেঁচে ছিল কোনমতে।

 

ইন্টারনেটের ব্যাপ্তির ফলে আবারও মুক্তিযুদ্ধকে নতুন করে জানবার ক্ষেত্র তৈরি হল। কিন্তু সেই জায়গা থেকেও একেক জায়গায় একেক তথ্য কিংবা দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সেগুলো খুব একটা গোছানো ছিল না। পড়তাম আর ভাবতাম, ‘ইশ! স্বাধীনতার ইতিহাস কি কখনই একসাথে একটা সিনক্রোনাইজড ফর্ম্যাটে কোনদিন লিপিবদ্ধ হবে না?’ তার উপর চারদিকে আবার শুরু হল বিকৃতির তাণ্ডব। চেতনা খুব মনস্তাত্ত্বিক একটা বিষয় হলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা শুধু নিজ স্বার্থে বিক্রি হওয়া শুরু হলো।

 

এর মধ্যেই চোখে পড়ল- ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র থেকে বলছি’ নামক একটা প্রজেক্ট। পেইজে গেলাম, লেখা পড়লাম। আরেহ! এর জন্যই তো অপেক্ষা করে ছিলাম দীর্ঘদিন। পড়তে পড়তে খেয়াল করলাম, আমার নিজেরও মুক্তিযুদ্ধকে জানার পরিধি অনেক কম। দলিলপত্র পড়তে গিয়ে চোখে পানি এসেছে, ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, সম্মান বোধের জায়গাটাও টের পেয়েছি। এতসব অনুভূতি একসাথে দিতে পারছে আসলে কারা?

 

এর মাঝে একদিন লিও আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন তাঁদের সাথে কাজ করব কিনা। তাজকিয়াকে বললেন আমাকেও সাথে নিতে। ব্যাস! আগে পিছে ভাববার হেতু নেই। যুক্ত হয়ে গেলাম ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র থেকে বলছি’  প্রজেক্টের সাথে।

 

কাজ করতে এসেছিলাম অনেক কথা না বলে নিজ দায়িত্ববোধ থেকে, মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা সেটি নিজের মাঝে লালন করতে, সম্মানের জায়গাটিতে আসীন করতে। কিন্তু এখানে কাজ করবার পর আমার মনে হচ্ছে- এই কাজটা আমার নিজের কাছে আমার সম্মানটা বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। আমি গর্বিত, আমি ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র থেকে বলছি’ –র একজন। চেতনায় থাকুক মুক্তিযুদ্ধ, হৃদয়ে থাকুক বাংলাদেশ।