apd10

Mezbah Ul Azeez

মুক্তিযুদ্ধের মহান দিকের সাথে পরিচিত হবার আগেই আমার পরিচয় ঘটেছিল যুদ্ধের সময়ের ভয়াবহ ঘটনার ফলাফলের সাথে, আমার নানার পিঠের সাইকেলের চেইনের দাগগুলোর সাথে। একদল পিশাচ তার নানা কে ঝুলিয়ে বেঁধে সাইকেলের চেইন দিয়ে মারছে, একটা চার বছরের বাচ্চার কাছে সেটা কল্পনা করাটাই ছিল অনেক ভয়াবহ। এরপরে বাবার বন্ধু ডাঃ আজিজুল কাহহারের উপহার দেয়া মুক্তিযুদ্ধের একসেট গল্পের বইয়ের মাঝে দিয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিচয় ঘটল মুক্তিযুদ্ধের সাথে। এখনো মনে আছে, একা একাই নানার বানিয়ে দেয়া কাঠের বন্দুক দিয়ে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার কথা। এরপরে বাবা-মায়ের কিনে দেয়া অজস্র বই পড়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আগ্রহ বাড়তে থাকে। সবচেয়ে বড়ো প্রভাবকের কাজ করত মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের কিশোর উপন্যাস গুলো। ছবি তোলার প্রতি আগ্রহ ছিল ছোটবেলা থেকেই, তাই রশীদ তালুকদারের তোলা মুক্তিযুদ্ধের ছবিগুলো সৌভাগ্যক্রমে অনেক ছোটবেলাতেই দেখা হয়েছে। এরপরে বাংলা ব্লগের সাথে যখন ডেন্টাল কলেজে পড়ার সময় পরিচয় হল, তখন যেন আমার সামনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল। দেশটা কে যে মায়ের মত ভালবাসতে হয় এইটা কোন পত্রিকার বুলি হবার আগেই মন থেকে অনুধাবন করতে পেরেছিলাম। সবসময় মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কোন প্রজেক্টে কাজ করার ইচ্ছা ছিল, সুযোগ টা আসল নাজিয়া খান তিথি আপুর হাত ধরে। উনি যে এই প্রজেক্টের সাথে যুক্ত তা জানতাম, একদিন সাহস করে বললাম, আপু আমি কি এইখানে কাজ করতে পারব? আমি ভেবেছিলাম আপু মানা করবে, কিন্তু আপু দেখলাম আমার চেয়ে দুইগুণ বেশী উৎসাহী হয়ে আমাকে রাস্তা বাৎলে দিল। পরিচয় হল আলামিন ভাই এর সাথে। তারপরে শুরু হলো এই প্রজেক্টের সাথে পথ চলা। দেশ যা দিয়েছে, সে ঋণ ত শোধ হবার নয়, তাই যেখান থেকে যতটুকু পারি, দেশ কে উপহার দেবার চেষ্টা বজায় রাখতে চাই আজীবন। সবাইকে শুভকামনা।