10

Minhaz Uddin

আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জনের নাম স্বাধীনতা, গৌরবের নাম মুক্তিযুদ্ধ। কারণ স্বাধীন না হলে আমাদের অর্জনগুলো অন্য কারও হতো, আর তাই মুক্তিযুদ্ধ কিংবা স্বাধীনতার প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা থাকা উচিত। শহীদ স্বজন হিসেবে বলতে চাই লাল সবুজের পতাকার জন্য ৩০লক্ষ শহীদ আর ২ লক্ষ মা বোনের আত্মত্যাগ কেবল নির্দিষ্ট দিনে স্মৃতিস্তম্ভের শ্রদ্ধা নিবেদনে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। ব্যাপারটি ভাবাতো। যাদের আত্মত্যাগে আজ আমরা বিশ্বদরবারে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছি তাদের সম্পর্কে আমরা নিজেরা কতটুকু জানি কিংবা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এদের পরিচিতি কিভাবে তুলে ধরা যায়, কিভাবে এই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছড়িয়ে দেওয়া যায় ব্যাপারগুলো গভীরভাবে ভাবাতো। রক্তের ঋণ হয়তো শোধ করা যাবে না, কিন্ত যাঁদের ত্যাগে বাংলাদেশ, তাদের জন্য কিছু করার তাড়না সবসময় অনুভব করতাম। সেই সময় আর সুযোগ পেলাম অপরাজিতা নীল আপার মাধ্যমে। একদিন ইনবক্স করে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র থেকে বলছি’ পেজ সম্পর্কে জানালেন। তারপর আমি কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলাম। আমাকে ১০ম খণ্ড থেকে ‘’বিলম্বিত কনফারেন্স” মেজর রফিকুল ইসলামের সাক্ষাৎকার কম্পাইল করতে দিলেন। এরপর ১০ম খণ্ডের বিভিন্ন অংশ কম্পাইল করেছি। যখন বিভিন্ন অংশ কম্পাইল করতাম বিশেষ করে বিভিন্ন অপারেশনের কাহিনী তখন আমার নিজেকে অপারেশনের অংশ মনে হত। এই কাজে এক ধরণের ভালো লাগা, দায়িত্বশীলতা, আবেগ সবসময় কাজ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম না হওয়া আর গৌরবোজ্জল মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে না পারার আক্ষেপ কিছুটা হলেও ঘুচেছে। কাজ করতে পারাটাই আমার প্রাপ্তি।

কাজ করতে গিয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে। কাজ করতে গিয়ে কতসময় চোখ দিয়ে অজান্তেই অশ্রু ঝরেছে, কতসময় কাজ করতে গিয়ে ঘুমিয়ে গেছি। কাজের প্রতি এতোটা দরদ জন্মে গিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাডিরুমে কাজ করতে গিয়ে কর্তৃপক্ষের ধমক সহ শাস্তি পেতে হয়েছে, রুমমেটের সাথে ঝামেলা হয়েছে। তাছাড়া টুকটাক ঝামেলা ছিল। কিন্ত কাজ থেমে থাকে নি। আসলে ভালোলাগা, দায়িত্বশীলতা, ঋণ শোধের ক্ষুদ্র চেষ্টা থেকে কাজ করার চেষ্টা করেছি, কতটুকু কি করতে পেরেছি জানিনা।

প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর মাঝে আমাদের গর্ব মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য পাঠচক্র কার্যক্রমের আয়োজন করা যেতে পারে। তবে ভবিষ্যতের সকল উদ্যোগের সাথে থাকতে চাই, থাকব এটাই আশা করি।

আমাকে এই কাজে সংযুক্ত করার জন্য অপরাজিতা নীল আপাকে অসংখ্য ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা। বিশেষকরে আমার লেখাগুলো সাজানো থেকে শুরু করে, বিভিন্ন সময়ে সবধরণের সহযোগিতার জন্য অপরাজিতা নীল আপাকে ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা। কারণ উনার সহযোগিতা না পেলে আমার পক্ষে কাজ করা অসাধ্য এবং দুরূহ হয়ে পড়ত, হয়তো কাজ করার সুযোগই পেতাম না।

পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের পরিচয় হোক ‘’মুক্তিযুদ্ধ”, স্লোগান হোক ‘’ জয় বাংলা”